একাকী জীবনে রান্না সহজ করুন: ১০টি মাইক্রোওয়েভে ভেজিটারিয়ান রেসিপি যা আপনার সময় বাঁচাবে

বিদেশের মাটিতে একা থাকা মানে প্রতিদিন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া। কাজ শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘরে ফিরে রান্নার চিন্তাই মাথায় আসে না। তখন হয় বাইরের খাবার খেতে হয়, নয়তো ইনস্ট্যান্ট নুডলস। কিন্তু প্রতিদিন এভাবে চলতে পারে না। স্বাস্থ্যও খারাপ হয়, পকেটেও চাপ পড়ে। তাই আজ আমি শেয়ার করছি ১০টি মাইক্রোওয়েভে ভেজিটারিয়ান রেসিপি যা আপনার একাকী জীবনকে একটু সহজ করে দেবে।
এই রেসিপিগুলো আমি নিজে ট্রাই করেছি যখন লন্ডনে পড়াশোনা করতাম। সেই সময় আমার কাছে ছোট্ট একটা মাইক্রোওয়েভ ছাড়া কিচেনে তেমন কিছুই ছিল না। প্রথমে ভেবেছিলাম মাইক্রোওয়েভে শুধু খাবার গরম করা যায়। কিন্তু পরে বুঝলাম, সঠিক টেকনিক জানলে পুরো খাবার রান্না করা সম্ভব। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এই লেখা।
কেন মাইক্রোওয়েভ রান্না বিদেশে থাকা মানুষের জন্য পারফেক্ট?
সময়ের কথা চিন্তা করুন। ক্লাস বা কাজ শেষে বাসায় ফিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রান্না করার মতো এনার্জি থাকে না। মাইক্রোওয়েভ রান্না মানে ১০-১৫ মিনিটে খাবার রেডি। তাছাড়া স্টোভ জ্বালিয়ে রান্না করলে গ্যাস বিল বাড়ে, কিন্তু মাইক্রোওয়েভ অনেক বেশি এনার্জি এফিশিয়েন্ট।
আরেকটা বড় সুবিধা হলো পরিষ্কার রাখা সহজ। একটা বাটি, একটা প্লেট—ব্যাস, এতটুকুই। সিঙ্কে থালা-বাসন জমে থাকার টেনশন নেই। যাদের শেয়ার্ড কিচেন, তাদের জন্য তো আরও বেশি সুবিধাজনক। নিজের বাটি নিয়ে গেলেন, রান্না করলেন, খেয়ে ধুয়ে রেখে দিলেন।
এবার চলুন দেখি কোন রেসিপিগুলো সত্যিই কাজে দেয়।
১. মাইক্রোওয়েভ স্প্যাগেটি স্কোয়াশ

প্রস্তুতি সময়: ১৫ মিনিট | পরিবেশন: ২ জন
স্প্যাগেটি স্কোয়াশ পাওয়া যায় বেশিরভাগ সুপারমার্কেটে। এটা লো-কার্ব, হাই ফাইবার আর পেট অনেকক্ষণ ভরা রাখে।
উপকরণ:
- ১টি মাঝারি স্প্যাগেটি স্কোয়াশ
- ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল
- ২ কোয়া রসুন (কুচি)
- লবণ ও গোলমরিচ স্বাদমতো
- পারমেসান চিজ (ঐচ্ছিক)
পদ্ধতি: প্রথমে স্কোয়াশটা ভালো করে ধুয়ে নিন। একটা ছুরি দিয়ে ৮-১০ জায়গায় ছিদ্র করুন—এটা গুরুত্বপূর্ণ, নাহলে মাইক্রোওয়েভে ফেটে যেতে পারে। মাইক্রোওয়েভ-সেফ প্লেটে রেখে হাই পাওয়ারে ১০ মিনিট দিন।
সাবধানে বের করে অর্ধেক কাটুন। ভেতরের বীজগুলো চামচ দিয়ে তুলে ফেলুন। তারপর একটা কাঁটা দিয়ে ভেতরের অংশ স্ক্র্যাপ করতে থাকুন। দেখবেন নুডলসের মতো স্ট্র্যান্ড বের হচ্ছে। এগুলো একটা বাটিতে নিয়ে অলিভ অয়েল, রসুন, লবণ ও মরিচ দিয়ে মিশিয়ে নিন।
চাইলে উপরে পারমেসান চিজ কুচি করে ছিটিয়ে দিতে পারেন। এই একটা ডিশেই আপনার ডিনার সলভ।
২. মিনিটেই তৈরি ভেজিটেবল স্টির ফ্রাই

প্রস্তুতি সময়: ৮ মিনিট | পরিবেশন: ২ জন
যখন একদম সময় নেই, তখন এই রেসিপি লাইফসেভার।
উপকরণ:
- ১ কাপ ব্রকলি ফ্লোরেট
- ১ কাপ গাজর স্লাইস
- ১ কাপ বেল পেপার স্লাইস
- ২ টেবিল চামচ সয়া সস
- ১ চা চামচ আদা কুচি
- ১ টেবিল চামচ তিলের তেল
পদ্ধতি: সব সবজি একসাথে একটা মাইক্রোওয়েভ-সেফ বাটিতে রাখুন। সয়া সস, আদা এবং তেল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। ভেন্টেড ঢাকনা দিয়ে ঢেকে হাই পাওয়ারে ৫ মিনিট রান্না করুন।
বের করে একবার নেড়ে দিন। আবার ঢেকে আরও ৩ মিনিট দিন। দেখবেন সবজিগুলো পারফেক্টলি টেন্ডার হয়ে গেছে কিন্তু ক্রাঞ্চি আছে। চাইলে উপরে তিল ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।
যারা চাকরি করেন, লাঞ্চবক্সে নিয়ে যেতে পারেন এটা। সকালে ১০ মিনিটে তৈরি, দুপুরে হেলদি লাঞ্চ রেডি।
৩. প্রোটিন-প্যাকড মাইক্রোওয়েভ ডাল

প্রস্তুতি সময়: ১২ মিনিট | পরিবেশন: ৩ জন
দেশের বাইরে থাকলেও ডাল-ভাতের স্বাদ ভোলা যায় না। এই রেসিপি সেই চাহিদা মিটাবে।
উপকরণ:
- ১ কাপ মসুর ডাল (লাল)
- ৩ কাপ পানি
- ½ চা চামচ হলুদ গুঁড়া
- ১ চা চামচ জিরা
- ২ টেবিল চামচ ঘি বা বাটার
- লবণ স্বাদমতো
পদ্ধতি: ডাল দুই-তিনবার ধুয়ে একটা বড় মাইক্রোওয়েভ বাটিতে নিন। বাটি অবশ্যই বড় নিতে হবে কারণ পানি ফুটে উপরে উঠে আসবে। পানি, হলুদ এবং লবণ দিয়ে মিশিয়ে নিন।
ঢাকনা না দিয়ে হাই পাওয়ারে ১০-১২ মিনিট রান্না করুন। মাঝখানে একবার চেক করবেন। ডাল সিদ্ধ হয়ে গেলে আলাদা একটা ছোট বাটিতে ঘি গরম করে জিরা ফোড়ন দিন (মাইক্রোওয়েভেই ৩০ সেকেন্ড)।
এই ফোড়ন ডালের উপর ঢেলে দিন। মিশিয়ে গরম ভাতের সাথে খান। সিম্পল কিন্তু খুবই স্যাটিসফাইং।
৪. কুইক ভেজিটেবল পুলাও

প্রস্তুতি সময়: ১৮ মিনিট | পরিবেশন: ৪ জন
উইকএন্ডে একবার তৈরি করে রাখুন। পরের তিন দিনের লাঞ্চ সলভ।
উপকরণ:
- ২ কাপ বাসমতি চাল
- ১.৫ কাপ মিশ্র সবজি (ফ্রোজেন হলেও চলবে)
- ১টি বড় পেঁয়াজ কুচি
- ১ চা চামচ গরম মসলা
- ৩ কাপ পানি
- ২ টেবিল চামচ অয়েল
পদ্ধতি: চাল ভালো করে ধুয়ে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। একটা বড় মাইক্রোওয়েভ-সেফ ডিশে সব উপকরণ একসাথে নিন। পানি যোগ করে ভালো করে মিশিয়ে নিন।
ঢাকনা দিয়ে ঢেকে হাই পাওয়ারে ১০ মিনিট রান্না করুন। তারপর পাওয়ার ৫০% এ কমিয়ে আরও ১০ মিনিট দিন। রান্না শেষে ৫ মিনিট রেস্ট করতে দিন।
কাঁটা দিয়ে ঝরঝরে করে নিন। চাইলে রায়তা বা সিম্পল দই দিয়ে খেতে পারেন। সানডে বিকেলে তৈরি করে রাখলে সপ্তাহজুড়ে মিল প্রেপ হয়ে যায়।
৫. ঝটপট পনির টিক্কা

প্রস্তুতি সময়: ১০ মিনিট | পরিবেশন: ২ জন
পনির ভালোবাসেন? এই রেসিপি আপনার জন্য।
উপকরণ:
- ২৫০ গ্রাম পনির কিউব
- ½ কাপ দই
- ২ টেবিল চামচ টিক্কা মসলা
- ১ টেবিল চামচ লেবুর রস
- ১টি বেল পেপার কাটা
- লবণ স্বাদমতো
পদ্ধতি: একটা বাটিতে দই, টিক্কা মসলা, লেবুর রস এবং লবণ মিশিয়ে ম্যারিনেড তৈরি করুন। পনির কিউব এবং বেল পেপার এই ম্যারিনেডে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।
মাইক্রোওয়েভ-সেফ প্লেটে সাজিয়ে হাই পাওয়ারে ৫ মিনিট রান্না করুন। সাবধানে উল্টিয়ে আরও ৩ মিনিট দিন। পনির সফট থাকবে কিন্তু মসলা ভালো করে লেগে যাবে।
মিন্ট চাটনি বা কেচাপ দিয়ে খান। স্ন্যাকস হিসেবে পারফেক্ট। মুভি দেখার সময় এর চেয়ে ভালো কিছু নেই।
৬. কমফোর্ট ফুড: ভেজিটেবল সুপ
প্রস্তুতি সময়: ১০ মিনিট | পরিবেশন: ৩ জন
শীতকালে বা অসুস্থ লাগলে এই সুপ সত্যিই কাজ দেয়।
উপকরণ:
- ২ কাপ মিশ্র সবজি কুচি
- ৩ কাপ ভেজিটেবল স্টক (বা পানি + বুলিয়ন কিউব)
- ১টি পেঁয়াজ কুচি
- ¼ কাপ টমেটো পিউরি
- ২ টেবিল চামচ ক্রিম (ঐচ্ছিক)
পদ্ধতি: মাইক্রোওয়েভ বাটিতে সব সবজি এবং পেঁয়াজ নিন। স্টক এবং টমেটো পিউরি যোগ করুন। ভালো করে মিশিয়ে ঢাকনা দিয়ে হাই পাওয়ারে ৮-১০ মিনিট রান্না করুন।
চাইলে ব্লেন্ডার দিয়ে মিশিয়ে স্মুদ করতে পারেন। আবার চাঙ্কি রাখতে চাইলে সেটাও ঠিক আছে। লবণ, মরিচ এবং ক্রিম মিশিয়ে পরিবেশন করুন।
রাতে দেরি করে বাসায় ফিরে যখন ভারী কিছু খেতে ইচ্ছে করে না, তখন এই সুপ আইডিয়াল।
৭. স্পাইসি আলু দম
প্রস্তুতি সময়: ১২ মিনিট | পরিবেশন: ৪ জন
দেশি স্বাদের জন্য মন কেমন করে? এই রেসিপি সেই খিদে মিটাবে।
উপকরণ:
- ৪টি মাঝারি আলু কিউব করা
- ½ কাপ টমেটো সস
- ২ চা চামচ কারি পাউডার
- ১ টেবিল চামচ আদা-রসুন পেস্ট
- ¼ কাপ দই
- লবণ ও মরিচ স্বাদমতো
পদ্ধতি: আলুর খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট কিউব করে কাটুন। সাইজ সমান হলে সব একসাথে সিদ্ধ হবে। মাইক্রোওয়েভ বাটিতে আলু এবং বাকি সব উপকরণ একসাথে মিশিয়ে নিন।
ঢাকনা দিয়ে হাই পাওয়ারে ১০ মিনিট রান্না করুন। মাঝখানে একবার নেড়ে দিন। আরও ২ মিনিট দিন। আলু সফট হয়ে গেলে গ্রেভি ঘন হয়ে আসবে।
ধনেপাতা ছিটিয়ে রুটি বা ভাতের সাথে খান। ডরমেটরিতে থাকলে এই ডিশ তৈরি করে রুমমেটদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।
৮. ক্রিমি পালক পনির

প্রস্তুতি সময়: ১০ মিনিট | পরিবেশন: ৩ জন
রেস্টুরেন্টের পালক পনির বাসায় তৈরি করার সবচেয়ে সহজ উপায়।
উপকরণ:
- ২ কাপ পালং শাক কুচি (ফ্রেশ বা ফ্রোজেন)
- ২০০ গ্রাম পনির কিউব
- ¼ কাপ ক্রিম
- ১টি পেঁয়াজ কুচি
- ১ চা চামচ গরম মসলা
- লবণ স্বাদমতো
পদ্ধতি: পালং শাক ভালো করে ধুয়ে কুচি করে নিন। মাইক্রোওয়েভ বাটিতে পেঁয়াজ এবং মসলা দিয়ে ২ মিনিট রান্না করুন। এতে পেঁয়াজের কাঁচা গন্ধ চলে যাবে।
তারপর পালং শাক যোগ করে ৪ মিনিট রান্না করুন। পনির কিউব এবং ক্রিম দিয়ে আরও ৩ মিনিট দিন। ভালো করে মিশিয়ে নিন।
গ্রেভি হালকা গাঢ় সবুজ রঙের হবে। নান বা পরোটার সাথে খেতে দারুণ লাগে। ফ্রাইডেতে নিজের জন্য একটা স্পেশাল ডিনার বানাতে পারেন এটা।
৯. প্রোটিন রিচ চানা মসলা

প্রস্তুতি সময়: ১৫ মিনিট | পরিবেশন: ৪ জন
সস্তা, পুষ্টিকর এবং ভরপেট খাবার চাইলে এটা তৈরি করুন।
উপকরণ:
- ২ কাপ সিদ্ধ ছোলা (ক্যান করা নিলে সময় বাঁচবে)
- ২টি বড় টমেটো কুচি
- ১টি বড় পেঁয়াজ কুচি
- ২ চা চামচ চানা মসলা
- ১ টেবিল চামচ আদা-রসুন পেস্ট
পদ্ধতি: মাইক্রোওয়েভ বাটিতে পেঁয়াজ এবং আদা-রসুন পেস্ট দিয়ে ৩ মিনিট রান্না করুন। টমেটো এবং মসলা যোগ করে আরও ৪ মিনিট দিন। টমেটো একদম নরম হয়ে যাবে।
সিদ্ধ ছোলা এবং আধা কাপ পানি মিশিয়ে দিন। ঢাকনা দিয়ে হাই পাওয়ারে ৬-৮ মিনিট রান্না করুন। মাঝখানে একবার নেড়ে দিন।
শেষে ধনেপাতা এবং লেবুর রস দিয়ে সার্ভ করুন। রাইসের সাথে কমব্যো পারফেক্ট। তিন-চার দিন ফ্রিজে রাখতে পারবেন।
১০. ফ্ল্যাটমেট ইম্প্রেস করুন: ভেজিটেবল বিরিয়ানি

প্রস্তুতি সময়: ২৫ মিনিট | পরিবেশন: ৪ জন
বিশেষ দিনে বা কারো জন্মদিনে এই বিরিয়ানি তৈরি করুন।
উপকরণ:
- ২ কাপ বাসমতি চাল
- ২ কাপ মিশ্র সবজি
- ৩ চা চামচ বিরিয়ানি মসলা
- ½ কাপ দই
- ৩ টেবিল চামচ ঘি
- ১টি বড় পেঁয়াজ স্লাইস (ফ্রাই করা)
- কয়েকটা পুদিনা পাতা
পদ্ধতি: চাল ভালো করে ধুয়ে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। একটা বড় মাইক্রোওয়েভ ডিশে প্রথমে সবজি এবং দই মিশিয়ে একটা লেয়ার তৈরি করুন। তার উপরে চাল এবং মসলা দিয়ে আরেকটা লেয়ার দিন।
৩ কাপ পানি যোগ করুন। উপরে ঘি ঢেলে দিন এবং ফ্রাই করা পেঁয়াজ ছড়িয়ে দিন। ঢাকনা দিয়ে হাই পাওয়ারে ১৫ মিনিট রান্না করুন।
পাওয়ার ৫০% এ কমিয়ে আরও ৮ মিনিট দিন। ১০ মিনিট রেস্ট করতে দিন। ঢাকনা খুললে বিরিয়ানির সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়বে। রায়তা দিয়ে সার্ভ করুন।
কিছু প্র্যাক্টিক্যাল টিপস যা আমি শিখেছি

মাইক্রোওয়েভ-সেফ কন্টেইনার চেনার উপায়: কন্টেইনারের নিচে দেখুন। মাইক্রোওয়েভ-সেফ সিম্বল থাকবে। প্লাস্টিক ব্যবহার করলে নিশ্চিত হয়ে নিন যে সেটা BPA-ফ্রি। আমি সবসময় গ্লাস কন্টেইনার ব্যবহার করার চেষ্টা করি।
পাওয়ার লেভেল বুঝুন: সব মাইক্রোওয়েভের পাওয়ার আলাদা। আপনার মাইক্রোওয়েভ যদি ১২০০ ওয়াটের হয়, তাহলে রেসিপিতে দেওয়া সময় থেকে ১-২ মিনিট কমিয়ে দিন। আবার ৭০০ ওয়াটের হলে ১-২ মিনিট বাড়ান।
খাবার কভার করুন: ভেন্টেড লিড ব্যবহার করুন। নাহলে কাগজের তোয়ালে দিয়ে ঢেকে দিন। এতে মাইক্রোওয়েভের ভেতরে খাবার ছড়াবে না এবং মইসচার ভালো থাকবে।
মিল প্রেপিং করুন: উইকএন্ডে একবার বাল্ক রান্না করে ছোট ছোট কন্টেইনারে ভাগ করে ফ্রিজে রাখুন। সপ্তাহজুড়ে প্রতিদিন একটা করে বের করে খেতে পারবেন।
ইন্ডিয়ান গ্রোসারি স্টোর খুঁজে নিন: বেশিরভাগ শহরেই ইন্ডিয়ান বা এশিয়ান গ্রোসারি স্টোর পাওয়া যায়। সেখানে দেশি মসলা, দাল, চাল সব সস্তায় পাবেন। আমি লন্ডনে Wembley এর একটা দোকান থেকে সবকিছু কিনতাম।
শেষ কথা
একা থাকার মানে এই না যে খারাপ খেতে হবে বা প্রতিদিন টেকঅাউট খেতে হবে। এই ১০টি মাইক্রোওয়েভে ভেজিটারিয়ান রেসিপি আমার নিRetry
F
Continue
জীবনে অনেক সাহায্য করেছে। আশা করি আপনারও কাজে দেবে।
শুরুতে হয়তো একটু অদ্ভুত লাগবে। মাইক্রোওয়েভে পুরো খাবার রান্না করার ব্যাপারটা। কিন্তু দুই-তিনবার ট্রাই করলেই হাত পাকবে। টাইমিং বুঝে যাবেন। নিজের মাইক্রোওয়েভের সাথে পরিচিত হয়ে যাবেন।
আর সবচেয়ে বড় কথা, বাসায় রান্না করা খাবার খেলে শরীরটা ভালো থাকে। বিদেশে একা থাকতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন শুধু খাওয়া-দাওয়ার অনিয়মের কারণে। প্রপার খাবার না খেলে পড়াশোনা বা কাজেও মন বসে না।
এই রেসিপিগুলো থেকে যেকোনো তিন-চারটা শিখে নিন। তারপর নিজের মতো করে এক্সপেরিমেন্ট করুন। হয়তো আপনি ব্রকলি পছন্দ করেন না, তাহলে ফুলকপি দিন। টমেটো সস না থাকলে তাজা টমেটো ব্যবহার করুন। রান্নার সৌন্দর্য এখানেই—আপনার স্বাদমতো বদলে নিতে পারবেন।
বাজেট সেভিং টিপস:
ফ্রোজেন ভেজিটেবলস কিনুন। এগুলো ফ্রেশের চেয়ে সস্তা এবং অনেকদিন রাখা যায়। নষ্ট হওয়ার ভয় নেই। আমি নিজে প্রায়ই ফ্রোজেন মিক্সড ভেজিটেবলস কিনতাম। একবার কিনলে তিন-চার সপ্তাহ চলত।
বাল্ক কুকিং করুন। যেমন ডাল বা চানা মসলা একবার বেশি করে তৈরি করে ছোট কন্টেইনারে ভাগ করে ফ্রিজ করুন। খরচ কমবে আর সময়ও বাঁচবে।
সিজনাল সবজি কিনুন। যেই সিজনে যেটা বেশি হয়, সেটা সস্তা থাকে। গ্রীষ্মকালে টমেটো, শীতকালে আলু-গাজর। এভাবে কিনলে বাজেটের মধ্যেই পুষ্টিকর খাবার খাওয়া সম্ভব।
টাইম ম্যানেজমেন্ট:
সানডে সন্ধ্যায় দুই ঘণ্টা সময় বের করুন। এই সময়ে তিন-চারটা ডিশ তৈরি করে ফেলুন। কন্টেইনারে ভাগ করে ফ্রিজে রাখুন। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রান্নার চিন্তাই করতে হবে না।
মর্নিং শিফটে কাজ করলে সকালে উঠে ১০ মিনিটে কিছু একটা বানিয়ে লাঞ্চবক্সে নিয়ে যান। ইভিনিং শিফট হলে দুপুরে রান্না করে রাখুন। নাইট শিফট করলেও এই রেসিপিগুলো কাজে দেবে কারণ সবই কুইক।
হেলথ বেনিফিটস:
এই রেসিপিগুলো সব ভেজিটেরিয়ান। মানে হাই ফাইবার, লো কোলেস্টেরল। ওজন কন্ট্রোলে রাখতে সাহায্য করবে। বিদেশে গিয়ে অনেকেই ওজন বাড়িয়ে ফেলেন ফাস্ট ফুড খেয়ে। এই সমস্যা এড়াতে পারবেন।
প্রোটিনের জন্য ডাল, ছোলা, পনির আছে। কার্বোহাইড্রেটের জন্য চাল, আলু। ভিটামিনের জন্য নানা রকম সবজি। ব্যালান্সড ডায়েট মেইনটেইন করা সহজ হবে।
মেন্টাল হেলথ কানেকশন:
রান্না করার একটা থেরাপিউটিক ইফেক্ট আছে। কাজের প্রেশার বা পড়াশোনার স্ট্রেস থেকে মন হালকা হয়। আমি নিজে লক্ষ্য করেছি, যেদিন রান্না করতাম সেদিন মুড ভালো থাকত।
তাছাড়া দেশি খাবার বানালে একটু হলেও দেশের কথা মনে পড়ে। হোমসিকনেস একটু কমে। ডাল-ভাতের গন্ধ পেলে মনে হয় বাড়িতে আছি।
শেয়ার করার আনন্দ:
যদি শেয়ার্ড এপার্টমেন্টে থাকেন, রুমমেটদের সাথে শেয়ার করুন। ভেজিটেবল বিরিয়ানি বা চানা মসলা বেশি করে বানিয়ে সবাইকে দিতে পারেন। এতে সম্পর্ক ভালো হয়। সবাই মিলে খেলে একাকীত্ব অনেক কম লাগে।
আমার এক বাংলাদেশি বন্ধু ছিল যে প্রতি শুক্রবার বিরিয়ানি বানাত। আমরা সবাই মিলে খেতাম। সেই শুক্রবারগুলো এখনও মনে পড়ে। খাবার শুধু খাবার না, এটা মানুষকে কানেক্ট করে।
সেফটি টিপস:
মাইক্রোওয়েভ থেকে কিছু বের করার সময় সাবধান থাকুন। কন্টেইনার খুব গরম থাকে। অভেন মিট বা মোটা টাওয়েল ব্যবহার করুন।
ঢাকনা খোলার সময় বাষ্প সাবধানে বের করুন। হঠাৎ করে খুললে গরম বাষ্প মুখে লাগতে পারে। একটু একপাশ থেকে খুলুন।
প্লাস্টিক কন্টেইনার বারবার ব্যবহার করলে দেখবেন রঙ বদলে যায় বা ওয়ার্প হয়ে যায়। তখন সেটা ফেলে দিন। গ্লাস কন্টেইনারে ইনভেস্ট করুন। একবার কিনলে বছরের পর বছর চলবে।
কমিউনিটি রিসোর্সেস:
আপনার ইউনিভার্সিটিতে বা এলাকায় ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট গ্রুপ খুঁজুন। সেখানে অনেক বাংলাদেশি, ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি স্টুডেন্ট পাবেন। তাদের সাথে রেসিপি শেয়ার করতে পারেন। কেউ হয়তো আরও ভালো টিপস জানে।
ফেসবুকে এক্সপ্যাট গ্রুপগুলোতে জয়েন করুন। সেখানে মানুষ নিজেদের এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করে। কোথায় দেশি মসলা সস্তায় পাওয়া যায়, কীভাবে খরচ কমানো যায়—এসব ইনফরমেশন পাবেন।
পরিবারের সাথে কানেক্ট:
মাঝে মাঝে বাড়িতে ফোন দিন আর রান্নার গল্প বলুন। মা-বাবা খুশি হবেন। তাঁরা হয়তো নতুন কোনো টিপস দেবেন। আমার মা আমাকে বলেছিল ডালে একটু লেবুর রস দিতে। চেষ্টা করে দেখলাম, সত্যিই টেস্ট অনেক ভালো হয়।
নিজের রান্নার ফটো তুলে পাঠান। পরিবার দেখে আশ্বস্ত হবে যে আপনি ভালো খাচ্ছেন। আর নিজেরও ভালো লাগবে যে কিছু একটা ভালো করতে পারছেন।
ফাইনাল থটস:
বিদেশে একা থাকা কঠিন। এটা সবাই জানে। কিন্তু এই কঠিন সময়েও নিজের যত্ন নেওয়া জরুরি। আর নিজের যত্নের প্রথম ধাপ হলো ভালো খাওয়া।
এই ১০টি রেসিপি দিয়ে শুরু করুন। ধীরে ধীরে আরও শিখবেন। হয়তো ছয় মাস পরে নিজেই নতুন রেসিপি ক্রিয়েট করবেন। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।
রান্না একটা লাইফ স্কিল। এটা শিখলে শুধু বিদেশে না, সারাজীবন কাজে দেবে। দেশে ফিরে গেলেও এই স্কিল থাকবে। নিজের পরিবারের জন্য রান্না করতে পারবেন।
মনে রাখবেন, প্রত্যেক বড় শেফও একসময় ডিম সিদ্ধ করতে জানত না। সবাই শিখে শিখে এগিয়েছে। আপনিও পারবেন। ভুল হবে, প্রথমবার টেস্ট ঠিক নাও হতে পারে। কিন্তু চেষ্টা চালিয়ে যান।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা—নিজের জন্য সময় বের করুন। কাজ-পড়াশোনার মাঝে ৩০ মিনিট রান্নার জন্য রাখুন। এই ৩০ মিনিট আপনার হেলথ, মানি এবং মেন্টাল পিস—তিনটাই ইমপ্রুভ করবে।
এখন মাইক্রোওয়েভ চালু করুন। যেকোনো একটা রেসিপি বেছে নিন। আজই শুরু করুন। দুই সপ্তাহ পরে আমাকে থ্যাংক করবেন।
হ্যাপি কুকিং! 🍳

আপনার মাইক্রোওয়েভ কুকিং জার্নি সফল হোক!
“আপনি যদি এর আগে কোনদিন রান্না না করে থাকেন, অর্থাৎ রান্না করতে না জানেন,
তবুও এই পদ্ধতিতে আপনি রান্না করতে পারবেন, মানে সবাই নিজের রান্না নিজে করতে পারবেন।
এমনকি আপনি যদি কখনও রান্নাঘরে যানও না থাকেন,
তবুও এই সহজ পদ্ধতি আপনাকে স্বাচ্ছন্দ্যে নিজের জন্য সুন্দর খাবার তৈরি করতে সক্ষম করবে।”.
🍳 CookingRescue.com
মাইক্রোওয়েভে ভেজিটারিয়ান রেসিপি



